পড়ার কোনো শেষ নেই। আসন্ন ডাব্লুবিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার সামনে বইপত্র অফুরান। ইতিহাসের জন্য আপনি প্রাচীন ভারতের জন্য আর এস শর্মা, মধ্যভারতের জন্য সতীশ চন্দ্র, আধুনিক ভারতের জন্য বিপান চন্দ্র, শর্ট টাইপ প্রশ্নোত্তরের জন্য কৃষ্ণা রেড্ডি, অফটাইমে দেখাশোনার জন্য রাজিব আহির পড়তেই পারেন। ভূগোলের জন্য দ্বারস্থ হতে পারেন মাজিদ হাসান থেকে সুরেন্দ্র সিং হয়ে খুল্লারের বই পর্যন্ত। সাথে খুঁটিয়ে দেখলেন কার্তিক চন্দ্র মন্ডল। কিন্তু এত বই আপনি পড়বেন কখন, যদি না আপনার আগে থেকে পড়া না হয়ে থাকে? তাও আবার পরীক্ষার মাত্র আড়াই মাস আগে। সেক্ষেত্রে ইতিহাস এবং ভূগোলের মতো নম্বর তোলার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আপনি বেসিক বইপত্র পড়ে গেলেই উত্তর করে আসতে পারবেন।

ভারতের ইতিহাসঃ #জীবন_মুখোপাধ্যায়
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনঃ #কয়াল_হাজরা।
ভারতের ভূগোলঃ #বসু_মৌলিক বা #ঘোষ_মিশ্র।
পশ্চিমবঙ্গের ভূগোলঃ #অলোক_পাল।

পলিটির ক্ষেত্রে #লক্ষ্মীকান্ত এর বইটিই সেরার সেরা। অর্থনীতির ক্ষেত্রে রমেশ সিং এর বইটা ভালো। তবে প্রিলিমিনারি পাশ করার জন্য #তোজাম্মল_হোসেন পড়া যেতেই পারে। তবে প্রতিযোগিতা দর্পণ ম্যাগাজিনের ইকনমিক ইস্যুটা সংগ্রহে থাকলে সুবিধা হবে।

বিজ্ঞানের জন্য লুসেন্টের একটা বই আছে। জেনারেল সায়েন্স। কিন্তু অত কিছু প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য না পড়ে লুসেন্টের জেনারেল স্টাডিজের সায়েন্স পার্টু টুকু পড়া যেতে পারে। এছাড়াও লুসেন্ট, আরিহান্ত ইত্যাদি জেনারেল স্টাডিজ বইপত্র গুলো পুরোটা খুঁটিয়ে পড়লেই চলে। এমনকি আমার এটাও মনে হয়, শুধু লুসেন্টের বইটা একাগ্রচিত্তে অধ্যয়ন করলেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা উতরে দেওয়া যাবে। বইটাতে বিভিন্ন বিষয়গুলো এত সুন্দরভাবে সাজানো।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর জন্য যারা সারা বছর ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বা ইন্টারনেট থেকে প্রস্তুতি নেন, তাদের তো সমস্যা নেই। তবে যাদের পক্ষে অতটা সময় নেই, হয়ত কয়েকদিনে পুরোটা পড়তে হবে, তাদের জন্য এচিভার্স, প্রতিযোগিতা পরিপ্রেক্ষিত ইত্যাদি ম্যাগাজিনের বছর শুরুতে বার্ষিক সংখ্যার সংগ্রহ খুবই দরকার। এতে বিগত বছরগুলোর সবটাই টু দ্য পয়েন্ট লেখা আছে। ইংরাজিতে প্রতিযোগিতা দর্পণ বা সিভিল সার্ভিস ক্রনিকল অনুসরণ করা যায়। তবে যেটাই পড়ুন, একটা ম্যাগাজিনই পড়ুন। আশা করি ২৫ নম্বরের জন্য তার বেশী কিছু পড়ার দরকার নেই।

জি আই এর জন্য আর এস আগরওয়াল থেকে প্রস্তুতি নেওয়াই সেরা। ইংরাজীর জন্যও অনেকে আর এস আগরওয়াল পছন্দ করেন। তবে, আমার মত হল, ইংরাজীটা ক্র‍্যাক ডাব্লুবিসিএস বই থেকে প্রস্তুতি নেওয়া। বিগত বছরের প্রশ্নোত্তর সমেত ইংরাজির সুদীর্ঘ আলোচনা বইটাতে রয়েছে। বইটাতে কিছু ছাপার ভুল হয়তো আছে। তবে প্রিলিমিনারি পাশ করার জন্য সমগ্র বইটা সত্যিই খুব উপকারী। এই বইটা পুরোটা পড়তে পারলেও আলাদা করে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বই না পড়লেও চলবে। অন্তত প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য।

আসল কথা হল, আপনাকে ১২৫/১৩০ নম্বর পেতে হবে। বিগত বছরগুলোর কাট-অফ মার্কস ঘাঁটলে অনায়াসেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। বইয়ের সমুদ্রে হাবুডুবু না খেয়ে বিশেষ কিছু বইতে আপনাকে ডুবে যেতে হবে যাতে আপনার উত্তরপত্রে নেগেটিভ মার্কিং হয় টেণ্ডস টু জিরো। তাই কোনো এক বিসিএস বীর নাকি বলেছিলেন,

পড়ার কোনো শেষ নেই
বেশী পড়লে হারাবে খেই
মন্ত্রঃ অল্প বই খুঁটিয়ে পড়া
সাফল্য নিজেই দেবে ধরা।
ভালো লাগলে Whatsapp এ শেয়ার করুন